11192018সোম
বুধবার, 29 আগস্ট 2018 17:41

গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামিপক্ষের যুক্তি শেষ

নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষের মাধ্যমে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিষয়গত (ফ্যাক্ট) যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আগামী ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর আসামিপক্ষে আইনি যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। এরপর ঘোষণা হতে পারে রায়ের তারিখ। বুধবার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন তার আইনজীবী নজরুল ইসলাম। তিনি তার মক্কেলের বেকসুর খালাস চেয়েছেন। নজরুল ইসলাম আদালতে বলেন, ‘বাবর সাহেবের বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হচ্ছে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ তা প্রমাণ করতে পারেনি। রাষ্ট্রপক্ষ যেসব অভিযোগ এনেছে আমরা তা মিথ্যা প্রমাণ করতে পেরেছি।’ পুরান ঢাকার বকশিবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্য গ্রেনেড হামলায় নিহত হয় ২২ জন, আহত হয় কয়েকশ। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই মামলায় প্রকৃত অপরাধীদেরকে বাঁচিয়ে নিরীহ জজ মিয়াকে ফাঁসানোর চেষ্টা ধরা পড়ে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এই মামলাটিতে তদন্ত হয়েছে মোট তিন দফা। জোট সরকারের আমলে তদন্তের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের তদন্তের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুর সালাম মিণ্টু ও তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনকে আসামি করা হয়। ওই বছর ২৯ অক্টোবর ২২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ২০০৯ সালের ৯ জুন পর্যন্ত ৬১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার তদন্ত শেষে আসামি করা হয় মোট ৫২ জনকে। ২০১২ সালের ১৮ মার্চ তারেক রহমানসহ নতুন তালিকাভুক্ত ৩০ আসামির অভিযোগ গঠন করে ফের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তৃতীয় দফায় যাদেরকে আসামি করা হয় তাদের মধ্যে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ। মোট ৫২ জন আসামির মধ্যে মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ তিন জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে অন্য মামলায়। আর চার আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড নয়। বাকি ৪৫ আসামির মধ্যে যারা পলাতক তাদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় তাদের পক্ষেও আইনজীবী নিয়োগ দেয় সরকার। আর আজ বাবরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনে শেষ হয় ৪৫ জনের পক্ষে বক্তব্য। ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা মামলাটি যেন আর দীর্ঘসূত্রতায় না পরে, শেষ দিনের যুক্তি উপস্থাপনে এই বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করেন বিচারক। বলেন, ‘আপনারা (আসামিপক্ষের আইনজীবী) সার্বিকভাবে যুক্তি উপস্থাপন করবেন। একজন শেষ হলে আর একজন দেবেন, এজন্য অপেক্ষা করবেন না। আইনগত যুক্তি উপস্থাপন যেন সার্বিক হয় সে বিষয়টি লক্ষ্য রাখবেন।’ ‘আমাদেরকে এ মামলায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। অনেক চড়াই, উৎরাই। আপনাদের অনেক কিছু ফেইস করতে হয়েছে। চেষ্টা করেছি আইন অনুসরণ করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। আমি ‍পুঙ্ক্ষানুপুঙ্ক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি, মামলাটি এ পর্যায়ে নিয়ে আসতে পেরেছি।’ যুক্তি উপস্থাপনের শেষ দিন রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান, বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল এবং আব্দুল্লাহ ভূইয়া। রেজাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নিরপেক্ষ সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণ করতে পেরেছি যে বাবর সাহেব দুইটি জায়গায় উপস্থিত ছিলেন। হাওয়া ভবনে এবং ধানমন্ডিতে আব্দুস সালাম পিণ্টুর বাসায় হওয়া মিটিংয়ে (২১ আগস্ট হামলার পরিকল্পনার বৈঠক।’ ‘বাবর সাহেব অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত ছিলেন। বাবর সাহেবের অফিস (সচিবলায়) থেকে কয়েক গজ দূরে ঘটনাস্থল। কিন্তু সেখানে তিনি পরিদর্শন করতে যাননি।’ রেজাউর রহমান বলেন, ‘আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার আর্জি জানিয়েছে। আশা করি এ মামলায় দৃষ্টান্তমূলক সাজা হবে আসামিদের।’ পলাতক যারা তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল এটিএম আমিন আহমদ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ, পুলিশের সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান পলাতক রয়েছেন। এছাড়াও জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মাওলানা তাজ উদ্দিন, মাওলানা মহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মুরসালিন ওরফে মুরসালিন, মোহাম্মদ খলিল, জাহাঙ্গির আলম বদর, ইকবাল, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ লোকমান হাওলাদার, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জোবায়ের, মুফতি শফিকুর রহমান, রাতুল আহমেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবুকেও গ্রেপ্তার করা যায়নি। এদের মধ্যে দুই আনিসুল মোরসালিন ও মহিবুল মুত্তাকিন ভারতের তিহার কারাগারে আটক রয়েছেন। কারাগারে যারা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই এরর সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, বিএনপি নেতা লুৎফজ্জমান বাবর ও বিএনপি নেতা আবদুলস সালাম পিন্টু বিচার শুরুর আগে থেকেই কারাগারে। জঙ্গি সদস্য শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল, শেখ আবদুস সালাম, আবদুল মাজেদ ভাট, ইউছুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা ওরফে জিএম, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর ওরফে আবু হুমাইয়া ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিব উল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সায়ীদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গির আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামীম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, আবিদ হাসান সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামীম ওরফে রাশেদ, মো. উজ্জল ওরফে রতন ও হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়াও বন্দী আছেন। যারা জামিনে এই মামলায় জামিনে আছেন খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা, সাবেক আইজিপি শহুদুল হক, সাবেক আইজিপি খোদাবক্স, সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ ও ঢাকা মহানগরীর ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ।
পড়া হয়েছে 66 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বুধবার, 29 আগস্ট 2018 18:07