12162018রবি
শুক্রবার, 16 ফেব্রুয়ারী 2018 07:21

রায়ের অনুলিপি এখনও মেলেনি

নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি (সার্টিফায়েড কপি) ছয় দিনেও মেলেনি। গতকাল বুধবার বিকেল নাগাদ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। আজ বৃহস্পতিবার অনুলিপি হাতে পেলে রোববার আপিল করা হবে বলে গতকাল রাতে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। সানাউল্লাহ মিয়া আরও বলেন, গতকাল বুধবার সকালে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত পঞ্চম বিশেষ আদালতের কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, কপি তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। বিকেল ৪টা নাগাদ তা দেওয়া হবে। তবে বিকেলে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, এ মামলার রায়ের মূল কপি বিকেলে বেঞ্চ সহকারীর কাছে সংশোধন করে দিয়েছেন বিচারক। এখন সেটির অনুলিপি তৈরি করা হবে। মামলার অন্যান্য কাগজ তৈরি হয়ে গেছে। তাই গতকাল কপি পাওয়া যায়নি। আশা করা যায়, আজ বৃহস্পতিবার হয়তো রায়ের কপি পাব। আদালত সূত্রে জানা যায়, মূল রায় ৬৩২ পৃষ্ঠার হলেও রায়ের অনুলিপি হবে ছয় হাজার পৃষ্ঠার বেশি। ওই অনুলিপি হাতে আসার পরই জামিনের জন্য আপিল করতে পারবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। গ্রেফতারের আবেদন ফেরত :বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদনটি বাদীকে ফেরত দিয়ে গুলশান থানা পুলিশকে আগামী ১৪ মার্চ এ সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন আদালত। যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার ওই মামলায় গতকাল বুধবার মামলাটির বাদী বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী ওই আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব শুনানি শেষে বিকেল ৩টার দিকে এ-সংক্রান্ত আদেশের জন্য রাখেন। পরে তা কোনো কারণ ছাড়াই বাদীকে ফেরত দেন বিচারক। ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর এ বি সিদ্দিকী আদালতে এ মামলা করেন। ওই দিন আদালত তেজগাঁও থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এ বি এম মশিউর রহমান মানহানির অভিযোগে অভিযুক্ত করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আদালত ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ওই বছরের ২২ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। আদালতে হাজির না হওয়ায় ওই বছরের ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। এ পর্যন্ত ওই আদেশ বাস্তবায়িত হয়নি। আইনজীবীদের কর্মসূচি :বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বেআইনি ও অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে ও তার মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের সামনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে প্রতীকী অনশন করেছেন আইনজীবীরা। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে শতাধিক আইনজীবী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রতীকী অনশনে অংশ নেন। এতে অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, একটি ভুয়া, বানোয়াট ও মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছে। কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া এ মামলায় রায় দেওয়া হয়েছে। জাল-জালিয়াতি করে, কোনো রকম কাগজপত্র তৈরি করে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে অবশ্যই আপিল করা হবে। তিনি বলেন, ছয় দিন পেরোলেও এখনও রায়ের কপি পাইনি। আইনজীবী তৈমূর আলম খন্দকারের সভাপতিত্বে প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেন আইনজীবী ফজলুর রহমান, সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, সহসভাপতি উম্মে কুলসুম রেখা, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নেতা ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, খালেদা পান্না, রুহুল কুদ্দুস কাজল, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, শামীমা সুলতানা দিপ্তী, মির্জা আল মাহমুদ প্রমুখ।
পড়া হয়েছে 150 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 16 ফেব্রুয়ারী 2018 07:33