04062020সোম
শিরোনাম:
মঙ্গলবার, 28 জুলাই 2015 22:53

নির্বাচনী ইস্তেহার বাস্তবায়নে জেলাপ্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইস্তেহার বাস্তবায়নে কাজ করতে জেলাপ্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এজন্য মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আরও জনগণের কাছে যেতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে একান্তে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের দেয়া নির্বাচন ইস্তেহার ধরে জেলা প্রশাসকদের কাজ করতে বলেছেন। মাঠের কর্মকর্তাদের ইস্তেহার হাতে রেখে কার্যক্রম চালাতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনকালীন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারলেই দেশকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা, মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বক্তবো রাখেন। এছাড়া পঞ্চগড়ের জেলাপ্রশাসকসহ ৩৫জন ডিসি বক্তব্যে রাখেন। ডিসিরা বাংলাদেশ কর্মচারী আইন, পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ মাঠের বিভিন্ন সমস্যাদি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। বিশেষ করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় তাদের সামারি কোর্ট করার ক্ষেত্রে ক্ষমতা দেয়া প্রয়োজন। চট্গ্রাম বিভাগের এক জেলা প্রশাসক বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ডিসিরা মাঠে কাজ করেন। কিন্তু তাদের হাতে ক্ষমতা না থাকলে তারা কাজ করবে কি ভাবে? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসিদের নানা সমস্যার কথা শুনেছেন। তিনি বলেন, কোন সমস্যাই থাকবে না। নির্বাচনী ইস্তেহার ধরে কাজ করুন। প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু নির্মানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিামাঞ্চেলের উন্নয়নে আমারা পদ্মা সেতু নির্মানের ঘোষণা ইস্তেহারে দিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক এও প্রকল্পের অথায়ন প্রত্যাহার করে নেয়। আমি তাদের দুর্নীতির প্রমান চাইলে তা তারা দিতে পারেনি। তারপরেও আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি। ২০১৮ সালে এ সেতু কাজ শেষ হলে গোটা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের চেহারা বদওেল যাবে। চলতি বছরের ডিসি সম্মেলনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৪টি প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আইসিটি বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সহকারী কমিশনার (আইসিটি) পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছেন রংপুর ও সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার। সরকারি কাজের গতিশীলতা বাড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস তত্ত্বাবধায়ক ও আরও একটি প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছেন কিশোরগঞ্জ, মেহেরপুর, হবিগঞ্জ, যশোর, খুলনা ও নীলফামারীর ডিসি। মাঠ প্রশাসনের সব কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোন ভাতা প্রদানের দাবি করেছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক। সরকারি অফিসে নারী কর্মকর্তাদের সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের সুপারিশ করেছেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এককালীন যৌথ বীমা এক লাখ টাকার বদলে তিন লাখ টাকা করা এবং কল্যাণ ভাতা কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক। এছাড়া দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইন-হাউস প্রশিক্ষণ বাড়ানোর সুপারিশও করেছেন তিনি। অরক্ষিত ৭০০ কি.মি সীমান্তে বিওপি হবে-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সীমান্তে রিং রোড শিগগিরই না হলেও সীমান্তের অরক্ষিত ৭০০ কিলোমিটারে বর্ডার আউট পোস্ট (বিওপি) করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশন শেষে এ কথা জানান তিনি। চোরাচালান ও সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ভারতের সীমান্তে রিং রোর্ডের মতো বাংলাদেশ সীমান্তে রিং রোর্ড করার প্রস্তাব করেন বেশ কয়েকজন জেলা প্রশাসক। তাদের এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সীমান্তে রিং রোড এই মুহূর্তে না হলেও সীমান্তে ৭০০ কিলোমিটারে যেখানে বিওপি নেই সেখানে বিওপি করা হবে। বিওপি করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে আমরা বিওপি স্থাপনের কাজ শুরু করে দিয়েছি। ডিসিদের প্রস্তাবের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের কারাগারগুলো এখনও নাজুক ও জরাজীর্ণ। আর নির্মাণ কাজেও ধীরগতি। আমরা এগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ক্ষমতা বাড়ছে কোস্টগার্ডের, আসছে বড় জাহাজ কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এরইমধ্যে কোস্টগার্ডের ক্ষমতা বাড়াতে ব্যবস্থা নিয়েছি। ইতালী থেকে চারটি বড় জাহাজ আসছে। দুই টা ছয় মাসের মধ্যে এবং আর দুইটা এক বছরের মধ্যে আসবে। উপকুলীয় অঞ্চলে কোস্টগার্ড নৌ-দস্যূতা রোধে ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তাব দেয়। আমরা এটা করছি। আমরা এ লক্ষ্যে নৌ পুলিশ ব্যবস্থা করেছি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল রাখায় পুলিশ ভ্যান, প্রিজনার ভ্যান চেয়েছেন। আমার ব্যবস্থা নিচ্ছি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ তা ডিসিরা বলেননি। মোবাইল কোর্ট আইন সংশোধন এবং আরো পরিমার্জন করে জাতীয় সংসদে উত্থাপনের ব্যবস্থা করছি। গত ২৩ জুন মোবাইল কোর্টে আইন সংশোধন খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। আইনটির কলেবর বৃদ্ধি ও আরও পরিমার্জনের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মন্ত্রী আরো জানান, মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরে জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নির্দেশনা প্রতি জেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি এবং সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি কমিটি রয়েছে। এই দুই কমিটি নিয়মিত মিটিং করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনের মতো হত্যাকান্ড নিরুৎসাহিত করার নির্দেশনা দিয়েছি। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে রাজনের মতো হত্যাকান্ড ঘটবে না।
পড়া হয়েছে 769 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: মঙ্গলবার, 28 জুলাই 2015 23:11

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা