04062020সোম
শিরোনাম:
সোমবার, 29 ডিসেম্বর 2014 23:30

গাজীপুরে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে

নিজস্ব প্রদিবেদক
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে গাজীপুরের হাইটেক পার্ক এলাকায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষায়িত ডিজিটাল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেম আইন-২০১৪’ খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আইটি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ডিজিটাল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির পাশাপাশি দূরশিক্ষা ও অনলাইন শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। তবে এটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় কিছু অতিরিক্ত বিষয় এ আইনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আইনের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিলেও কিছু অনুশাসন ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির নামের ব্যাপারেও মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বিশ্ববিদ্যালয়টি করার ব্যাপারে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধুর নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে বঙ্গবন্ধু মোমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমতি লাগবে। এ বিষয়টি আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে সমাধান হবে। খুব শিগগিরই ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বা গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ আকর্ষণীয় হবে।
তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশে আইসিটি ক্ষেত্রে অসাধারণ মেধাবী ও যোগ্য লোকদের আকৃষ্ট করার জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয় যারা শিক্ষক হবেন তাদের জন্য আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা দেওয়ার বিধান থাকবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি দূরশিক্ষণ ও অনলাইন শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় একাডেমিক কাউন্সিলে আইসিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা থাকবেন। একাডেমিক কাউন্সিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মনোনীত দুজন আইসিটি শিল্প উদ্যোক্তা থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা উন্নয়ন কমিটিতে পরিকল্পনা বিভাগের একজন প্রতিনিধি থাকবে, যাতে তারা প্রকল্পগুলো ঠিক মতো নিতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ডিজিটাল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব উত্থাপন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ আইনের খসড়া করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। পরে শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে বৈঠক করেন এবং তাদের মতামত নেন। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কাউন্সিল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যাতে প্রযুক্তির বাস্তব অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের পাঠদানে কাজে লাগানো যায়, সেজন্য এর একাডেমিক কাউন্সিলে মাঠ পর্যায়ের তথ্য-প্রযুক্তি ভিত্তিক শিল্প কারখানার দুজন প্রতিনিধি থাকবেন। এছাড়া পরিকল্পনা উন্নয়ন কমিশনের একজন প্রতিনিধি থাকবেন। বাকি সদস্যরা অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতই হবে।
এদিকে ২০০৮ সালের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারভূক্ত ‘ন্যাশানাল সার্ভিস কর্মসূচি’ (এনএসপি) সম্প্রসারণের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের ১৭টি জেলার ১৭টি দরিদ্র উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে এবং পরবর্তী দু’বছর এটি অব্যাহত থাকবে। এ কর্মসূচির আওতায় ৪২ হাজার ৫শ’ যুবক-যুবতিকে তিন মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং স্বল্প মেয়াদী চাকরি প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, চাকরি পাওয়ার সুবিধার্থে যুবক-যুবতিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১০ সালের মার্চে দেশের ৩টি জেলায় তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও স্বল্পমেয়াদী চাকরি প্রদান কর্মসূচি শুরু হয়। সে সময় কুড়িগ্রাম, বরগুনা ও গোপালগঞ্জ জেলার ১৯টি উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। এর আওতায় মোট ৫৬ হাজার ৮০১ জন যুবক-যুবতিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ হাজার ৫৪ জন সরকারি চাকরি পেয়েছে। এনএসপি’র আওতায় যুবক-যুবতিরা প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রতিদিন ১শ’ টাকা করে এবং স্বল্পমেয়াদী চাকরিকালে ২শ’ টাকা করে পান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেসন, এনএসপি’র দ্বিতীয় পর্যায়ের বাস্তবায়ন হয় ২০১১-’১২ অর্থবছরে। এ সময় রংপুর বিভাগের ৬টি জেলার ১৪ হাজার ৪৬৭ জন যুবক-যুবতিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তৃতীয় পর্যায়ে ১৭টি জেলার ১৭টি দরিদ্র উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী দরিদ্র উপজেলাগুলো বাচাই করা হয়েছে। উপজেলাগুলো হচ্ছে, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, শরীয়তপুরের গোসাইর হাট, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, ময়মনসিংহের নান্দাইল, পিরোজপুরের কাউখালী, চাঁদপুরের হাইমচর, শেরপুর সদর, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, ঝালকাঠির নলছিটি, মাগুরার মোহাম্মদপুর, রাজবাড়ির গোয়ালন্দ, বাগেরহাটের চিতলমারী, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, বান্দরবানের থানচি, নাটোরের সিংড়া, খুলনার তেরখাদা এবং কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ।

গত ২-৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের মালয়েশিয়া সফর, গত ১৯-২১ অক্টোবর নেদারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এশিয়া-ইউরোপের সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রি পর্যায়ের বৈঠক, গত ২৪-২৬ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লীতে সার্ক মিনিস্টারস অব কালচার এর সভা এবং গত ১৭-১৮ অক্টোবর কোরিয়অর সিউলে অনুষ্ঠিত ‘দ্যা ফার্স্ট কোরিয়া-সাউথ এশিয়া কালচার মিনিস্টারস মিটিংয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রীর অংশগ্রহণ সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়।
পড়া হয়েছে 716 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: সোমবার, 29 ডিসেম্বর 2014 23:49

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা