04062020সোম
শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার, 11 ডিসেম্বর 2014 22:54

সেই যুগ্ম সচিব জাহাঙ্গীর বাধ্যতামূলক অবসরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যুগ্ম সচিব এ কে এম জাহাঙ্গীরকে সরকার বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে, যিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে গণমাধ্যমের খবর।
বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, জাহাঙ্গীরের চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার ‘জনস্বার্থে’ তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তিনি বিধি মোতাবেক অবসরজনিত সুবিধা পাবেন।

বিগত বিএনপি সরকারের সময় জাহাঙ্গীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি (অ্যাপয়নমেন্ট, পোস্টিং, ডেপুটেশন) অনুবিভাগে ছিলেন। এই বিভাগ থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের বিষয়টি দেখা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ‘নন-ক্যাডার’ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

“যেসব নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারী ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন তাদের প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শাও নোটিস দেওয়া হবে। নোটিসের জবাব পাওয়র পর তাদের চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হবে।”

গত ৪ ডিসেম্বর রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে একদল সরকারি কর্মকর্তার বৈঠকের খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হলেও একে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয় বিএনপি।

তবে ওই ঘটনাকে হালকাভাবে নেওয়া হবে না জানিয়ে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আগেই বলেছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক।

গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সনাক্ত করার কথা গত রোববার তিনি সাংবাদিকদের জানান।

গত ৪ ডিসেম্বর রাতে কয়েকটি টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদপত্রে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে একটি বৈঠক চলার খবর প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়, যাতে প্রশাসনের একদল কর্মকর্তাও রয়েছেন বলে জানানো হয়।

এরপর রাতেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই খবরটি আদৌ সত্য নয়, এর কোনো সত্যতা নেই।

“সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই সংবাদটি জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য অপপ্রচার করা হচ্ছে।”

এই সংবাদ প্রচার ও প্রকাশের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও দাবি করা হয় বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমানের স্বাক্ষরে পাঠানো ওই বিবৃতিতে।

তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক কয়েকজন আমলাকে রাতে তার কার্যালয়ে দেখা যায়। তবে তারা সবাই অবসরপ্রাপ্ত সরকরি কর্মকর্তা।

ওই দিন খালেদা জিয়া রাত সোয়া ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গুলশানের ওই কার্যালয়ে ছিলেন।

ওই কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় ফখরুল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তাই বৈঠকে ছিলেন না।

এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের অনেকেই সাবেক সচিব।

পড়া হয়েছে 764 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, 11 ডিসেম্বর 2014 23:06

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা